Showing posts with label Bangla. Show all posts
Showing posts with label Bangla. Show all posts

পুঁজিবাজারে ওপেনিং-ক্লোজিং সেশন শুরু ১৯ নভেম্বর থেকে

 আগামী ১৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রি-ওপেন সেশন, ওপেনিং সেশন, ক্লোজিং সেশন এবং পোস্ট ক্লোজিং সেশন চালু হচ্ছে।


আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, বিশ্বের অনেক পুঁজিবাজারে ওপেনিং ও ক্লোজিং সেশন আছে। ওপেনিং সেশনের কারণে বাজার চালুর আগে একটি শেয়ারের ওইদিনের দর কেমন হতে পারে, সেটির ধারণা পাওয়া যাবে। আবার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চাইলে ক্লোজিং প্রাইসের শেয়ার কেনাবেচা সুযোগ পাওয়া যাবে।


এর আগে গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রি-ওপেন সেশন, ওপেনিং সেশন, ক্লোজিং সেশন এবং পোস্ট ক্লোজিং সেশন স্টেকহোল্ডারদের ইউএটি এবং বাজারের সচেতনতা সম্পন্ন করা সাপেক্ষ চালু করার জন্য অনুমোদন করে।


ডিএসইর প্রি-ওপেন ও ওপেনিং সেশন হবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে ১০টা। এই সেশনে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা-বেচার আদেশ দিতে পারবেন। এই সময় একটি আইডিয়াল ওপেনিং প্রাইস নির্ধারণ করা হবে।


অপরদিকে দুপুর আড়াইটায় স্বাভাবিক লেনদেন শেষ হওয়ার পর শুরু হবে ক্লোজিং ও পোস্ট ক্লোজিং সেশন। এর ব্যাপ্তি বাড়বে ১০ মিনিট। এসময় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শেয়ার দর প্রস্তাব করতে পারবেন না। শুধু ক্লোজিং প্রাইসে শেয়ার কেনা বেচার সুযোগ পাবেন। এ সেশন হবে ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত।


উৎস: শেয়ারনিউজ

আমান ফিডের লটারি ড্র ২৪ জুন

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া কোম্পানি আমান ফিডের আইপিওর লটারির ড্র আগামী ২৪ জুন বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানি সচিব নন্দন কুমার দে শেয়ারনিউজ২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, আইপিওতে অনুমোদন পাওয়া আমান ফিডের আইপিও চাহিদার তুলনায় ১২.৬৪ গুন আবেদন বেশি জমা পড়েছে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ৭২ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এই ৭২ কোটি টাকার বিপরীতে কোম্পানিটির আইপিওতে মোট ৯১০ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকার আবেদন জমা পড়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ১২.৬৪ গুন।


জানা যায়, এর আগে ২৫ মে, সোমবার থেকে শুরু হয় এ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ। আমান ফিডের মাধ্যমে আইপিও আবেদনের নতুন পদ্ধতি শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতির আওতায় শুধু ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) তথা ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দেয়া হয়। আমান ফিডের আইপিওতে স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ২৫ মে, সোমবার থেকে ৪ জুন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবেদন জমা দিয়েছেন।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৪.৯৭ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) ৩০.৭৭ টাকা।

ইফাদ অটোসের লটারির ড্র ২৪-১২-১৪ [IFAD Autos IPO Result]

ইফাদ অটোসের লটারির ড্র ২৪-১২-১৪ [IFAD Autos IPO Result]. প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য ইফাদ অটোস লিমিটেডের লটারির ড্র আগামীকাল ২৪ ডিসেম্বর, বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটির আইপিও লটারির ড্র সকাল সাড়ে ১০টায়, রাজধানীর রমনাতে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে।

কোম্পানিটির আইপিওতে গত ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিলো ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।


জানা গেছে, কোম্পানিটির আইপিওতে ১ হাজার ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সাধারণ কোটায় ৭০২ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার, ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় ৭৮ কোটি ২৮ লাখ ৬২ হাজার টাকার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় ১৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকার এবং প্রবাসি বিনিয়োগকারী কোটায় ৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে। যা কোম্পানির উত্তোলনকৃত টাকর ১৬.০৫ গুণ।

ইফাদ অটোস শেয়ারবাজার থেকে ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ২ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ছেড়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। ২০০টি শেয়ারে মার্কেট লট।

আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৩০ জুন ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫.১৬ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে (রিভেলুয়েশনসহ) ৪৪.১২ টাকা।

কোম্পানিটির আইপিওতে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বেনকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫২৭ তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়।

সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের লটারির ড্র বৃহস্পতিবার

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ শেষে আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল লিমিটেডের লটারির ড্র আগামী ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানির সিএফও জামাল উদ্দিন পাটোয়ারি শেয়ারনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ওই দিন কোম্পানিটির লটারির ড্র রাজধানীর রমনায় অবস্থিতি ইনষ্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) এর সেমিনার হলে সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

কোম্পানিটির আইপিওতে ৪৫ কোটি টাকার বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৮৬৮ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বা ১৯.৩০ গুণ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সাধারণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৮৬৫ কোটি ৭১ লাখ ০৭ হাজার টাকার এবং প্রবাসি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে।
 



এর আগে কোম্পানিটির আইপিওতে ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে প্রবাসি বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিলো ২২ নভেম্বর পর্যন্ত।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ৪৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়েছে। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। ৫০০টি শেয়ারে মার্কেট লট।

শেয়ারবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, ভবন নির্মাণ এবং আইপিও খরচ খাতের ব্যয় করবে।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৯৭ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৮.৩৮ টাকা।

আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।

খান ব্রাদার্সের আইপিও লটারির ড্র বৃহস্পতিবার

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেয়ার জন্য খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাাষ্ট্রিজ লিমিটেডের লটারির ড্র আগামীকাল ২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটির লটারির ড্র এ দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সেমিনার হল অব ইনষ্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি), রমনা ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হবে।

এ কোম্পানিটির আইপিওতে মোট ৮৭২ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বা ৪৩.৬২ গুন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৭০ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১৯৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকার এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪০ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়ে। কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য ২ কোটি শেয়ার ছেড়েছে। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং মার্কেট লট ৫০০টি শেয়ারে।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত এবং প্রবাসীরা ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করার সুযোগ পান।

পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থে কোম্পানিটি মেশিনারিজ কেনা, বিল্ডিং নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধন বাড়াবে।

এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫২১তম সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারবাজারের স্বার্থে সুদ হার কমানোর দাবি ডিসিসিআই’র

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে আমানতের সুদ হার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির মুনাফার ওপর আরোপিত কর কমাতে হবে। পাশাপাশি তালিকাবর্হিভূত কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মিট দি প্রেস’ সভায় লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নব নির্বাচিত সভাপতি মো. সবুর খান।

সবুর খান বলেন, আমানতের সুদের হার কমানোর মাধ্যমে সাধারণ জনগনকে শেয়ারবাজারের প্রতি আকৃষ্ট করা যাবে। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির মুনাফার ওপর আরোপিত কর কমানোর মাধ্যমে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন সম্ভব।

মো. সবুর খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ডিসিসিআই মনে করে দেশে সার্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও গতিশীল ব্যবসা বজায় রাখা খুবই জরুরি। চলতি অর্থবছর জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চহিদা কম থাকায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউটিলিটির অভাবে শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া দেশে বিনিয়োগের পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হওয়ায় এ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন করা খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সহায়ক নয়। বেসরকারি খাত মনে করে দেশের বৃহৎ স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল সহনশীল মনোভাবের পরিচয় দিবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেশের জন্য ভালো নির্দেশিকা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তাই সহনশীলভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তাদের প্রতি জনগনের শ্রদ্ধা ও আস্থা বাড়বে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ পদক্ষেপ হলো দেশের সকল নাগরিককে সেন্ট্রাল ডাটাবেজের আওতায় আনা। এতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সহজ হবে বলে মিট দি প্রেসে মন্তব্য করেন মো. সবুর খান।

মূদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি পরস্পরবিরোধী উল্লেখ করে সবুর খান বলেন, একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাপক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রসারিত রাজস্বনীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সংকুচিত মূদ্রানীতি গ্রহণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত করছে।

বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেখানে কোনোভাবেই ২০ শতাংশ মুনাফা করা সম্ভব হয় না সেখানে ১৮- ২০ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা খুবই দূরহ ব্যাপার। এছাড়া, স্থানীয় ঋণপত্র’র উপর পণ্য সরবরাহ বা চুক্তি সম্পাদনের জন্য ঠিকাদার ও সরবরাহকারীর ন্যায় করারোপ করা হচ্ছে। স্থানীয় ঋণপত্র খোলার উপর এ ধরনের করারোপ করার ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে অসমপ্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় ঋণপত্রের উপর করারোপের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলের লেনদেনকেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই সরকারকে বেসরকারী খাতের পক্ষ থেকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরনের অযৌক্তিক করারোপ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখন পর্যন্ত নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। তার উপর জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি ধাপে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। ফলে যানবাহনের ভাড়াও বেড়েছে, এর সঙ্গে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেক মিল কারখানার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন কোনো কারখানা স্থাপিত হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করে ডিসিসিআই।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিজার্ভ রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধির সূচক শক্তিশালী অর্থনীতির পরিচায়ক। অন্যদিকে তা মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি এবং নতুন কারখানা স্থাপনের শ্লথতারও নির্দেশন।

প্রাইমারী মার্কেটেই বিনিয়োগকারীদের ভিড়

নিশ্চিত লাভের আশায় আইপিও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। এজন্য তারা শেয়ারপ্রতি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতেও কার্পণ্য করছেন না। অপরদিকে, লোকসানের ভয়ে তালিকাভুক্ত ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দর হাতের নাগালে থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।

বিনিয়োগকারীদের যুক্তি, যেহেতু আইপিওর শেয়ারে বাজারের সব স্তরের বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ থাকে তাই এখানে লোকসান হবার সম্ভাবনা কম। হয়তো সময় লাগতে পারে, তবে মুনাফা হবেই। তাই আইপিওতে আবেদনের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তির বিষয়টি বিনিয়োগকারীরা চিন্তাই করেন না। বিনিয়োগকারীদের এ মনোভাব শেয়ারবাজারে যে কোনো ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা করছেন। এ সুযোগে ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দিয়েও তালিকাভুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করে অনেক কোম্পানি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন অনেক শেয়ার রয়েছে যেগুলোর দর ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। এছাড়া অনেক কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ২০ টাকার নিচে। এসব কোম্পানির শেয়ারের চেয়ে নতুন কোম্পানির আইপিওর দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। অথচ নতুন কোম্পানির শেয়ার প্রিমিয়ামসহ ৪০ টাকা দরে কিনতেও আপত্তি নেই তাদের। নিশ্চিত মুনাফা করতেই বিনিয়োগকারীদের কাছে আইপিও’র শেয়ার বর্তমানে অগ্রগণ্য বলে জানান অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতে, মুলত: আইপিওর শেয়ারে লোকসানের সম্ভাবনা কম। এ কারণে প্রাইমারি বাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সব সময় বেশি। ধসের আগেও আইপিও বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল অন্যরকম। তবে তখন আইপিও বাজারের পাশাপাশি সেকেন্ডারী বাজারেও শেয়ারের চাহিদা ছিল। কারণ তখন সেকেন্ডারী মার্কেটেও বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা করতে পেরেছেন।

তবে ২০১০ সালের পর বাজার পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। ২০১০ সালের আগে বিনিয়োগকারীরা যে কোম্পানির শেয়ার ৪০০ টাকায় কিনতেন সেসব শেয়ার এখন ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর্থিক খাতের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধসের আগে বিনিয়োগকারীরা ৪৯০ টাকায় লেনদেন করেছেন। অথচ বর্তমানে এ শেয়ারটি ৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

আসছে ক্ষতিগ্রস্তদের সংশোধিত তালিকা

মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ সুবিধা এবং আইপিওতে কোটা সুবিধা পাওয়া বিনিয়োগকারীদের তালিকায় সংশোধন আসছে। শিগগিরই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ওয়েবসাইটে ক্ষতিগ্রস্তদের সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের মহাধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ ও আইপিওতে কোটা সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি’র ওয়েবসাইটে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকায় তা সংশোধন করে নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। চলতি সপ্তাহে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, একক এবং যৌথ হিসাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংশোধন করে এবং পূর্বের তালিকায় কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রকাশ করা হবে। তবে নতুন তালিকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বাড়া বা কমার সম্ভাবনা নেই।

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, আগের প্রকাশিত তালিকায় কিছু ভুল ছিল। ভুলগুলো সংশোধন করা হয়েছে। আগামী রোববার অথবা সোমবার সংশোধনী প্রকাশ করা হবে। নতুন তালিকায় কোনো বিনিয়োগকারী যুক্ত হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নতুন তালিকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বাড়ছে না। পূর্বের তালিকায় তথ্যগত কিছু ভুল ছিল সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর বেক্সিমকো’র প্রাধান্য


দীর্ঘ সময় পর দেশের উভয় পুঁজিবাজারে টাকার অংকে লেনদেন তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে বেক্সিমকো লিমিটেড এবং এ গ্রুপের অন্য কোম্পানিগুলো। দিনের শেষ ভাগে বেক্সিমকো লিমিটেড এবং এ গ্রুপের অপর প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো হল্টট্রেড হয়ে যায়। তবে বেক্সিমকো সিনথেটিক্সের শেয়ার দিনের শুরু থেকে হল্টট্রেড হয়ে থাকে। ডিসেম্বরে আর্থিক বছর শেষ হওয়ার কারণে ভালো ডিভিডেন্ডের প্রত্যাশায় এসব শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।  

আজ বুধবার ডিএসইতে লেনদেন তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে বেক্সিমকো লিমিটেড। ডিএসই’র সাধারণ সূচকে এ কোম্পানির অবদান ৫ শতাংশ। এছাড়া টাকার অংকে মোট লেনদেনের প্রায় ৯ শতাংশ হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের। পূর্বে প্রায়ই সময়ই বেক্সিমকো লিমিটেডকে এ তালিকায় দেখা গেলেও দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় টার্নওভার তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে এ কোম্পানি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিন শেষে ডিএসইতে বেক্সিমকো লিমিটেডের ২২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ শেয়ারের দর ৫৪ টাকা থেকে ৫৯.৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে এবং ৩৯ লাখ ৪৩ হাজার  শেয়ার ৬ হাজার ৫১২ বার হাতবদল হয়।

মামলা নয়, আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে- শেখ কবির হোসেন


দেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইন্স্যুরেন্স আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। মামলা করে নির্দেশনা স্থগিত করার পথ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) গঠিত টাক্সফোর্স কমিটির কাজে সার্বিক সহায়তা করতে হবে। কোনো কোম্পানি টাক্সফোর্স কমিটির কাজে বাধা দিলে ওই কোম্পানিকে বিআইএ থেকে তালিকাচ্যুত করা হবে। আজ বুধবার হোটেল পূর্বানীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি শেখ কবির হোসেন।

শেখ কবির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স আইন যথাযথ প্রয়োগে নতুন রেগুলেটরী অথরিটি আইডিআরএ বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এতে বীমা খাতের বিরাজমান সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কবির হোসেন জানান, সম্প্রতি আইডিআরএ একটি কোম্পানিতে অডিট নিয়োগ করে। কিন্তু কোম্পানিটি এর বিরুদ্ধে মামলা করে অডিট স্থগিত করেছে। এটি ঠিক নয়। এ মানসিকতা পরিহার করতে হবে। স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করতে হবে।

মার্জিন লোন সংক্রান্ত এসইসির নির্দেশনা মানছে না হাউজগুলো


দীর্ঘ দিন পর মার্জিন ঋণ নীতিমালা চূড়ান্ত হবার পরও বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার অবসান হয়নি। হাউজগুলো মার্জিন লোন নিয়ে পূর্বের মতোই টালবাহানা করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মার্জিন ঋণ নীতিমালা সংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাউজগুলো বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লোন দিচ্ছে না। এছাড়া শেয়ার সেল করা মাত্র পূর্বের লোনের টাকা এডজাস্ট করা হচ্ছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

মনির আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, সিরাজুল হক, আলাউদ্দিনসহ একাধিক বিনিয়োগকারী এ ব্যাপারে শেয়ারনিউজ২৪ডটকমে অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ হাউজ লোন দিতে চায় না। মূলধন ঘাটতি দেখিয়ে অনেক হাউজ নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে কম লোন দিচ্ছে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি নির্ধারিত ১:২ হারে কোনো হাউজই লোন দিচ্ছে না। অথচ আগামী জুন ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা ১:২ হারে মার্জিন লোন পাবার অধিকার রাখেন। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী লোকসানে থাকায় তাদেরকে নতুন করে লোন দেয়া হচ্ছে না। অনেকের পারচেস পাওয়ার থাকলেও নতুন করে লোন দেয়ার ক্ষেত্রে নানা রকমের টালবাহানা করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত হাউজ কর্মকর্তারা একজন আরেকজনের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে লোন দেয়া থেকে বিরত থাকছে।

বিনিয়োগকারীরা আরো অভিযোগ করেন, শেয়ার সেল দেয়া এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। লোকসান কাটানোর জন্য সামান্য লাভে শেয়ার সেল দিলে কিংবা এক শেয়ার ছেড়ে অন্য শেয়ারে যেতে চাইলে হাউজগুলো লোন সমন্বয় করছে।

সোনালী ইনভেস্টমেন্ট মনিরুজ্জামান বলেন, আমার মূলধন ছিল ৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরো ৫ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম। বর্তমানে আমার ক্রয়কৃত শেয়ারগুলোর মূল্য মাত্র ৪ লাখ টাকায় এসে ঠেকেছে। এমতাবস্থায় এক লাখ টাকার শেয়ার সেল দিলেই হাউজ ১০ হাজার টাকা কেটে রাখছে। ফলে লোকসান সমন্বয় করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে এসইসি’র বিশেষ ক্ষমতা


পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) দেয়া বিশেষ ক্ষমতা শিগগিরই চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সংসদে পাশ হওয়া সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন’১২ (সংশোধন) আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন’১২ (সংশোধন) বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এর মাধ্যমে এসইসি ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষমতা পাবে। এছাড়া কমিশনে কর্মরত যে কেউ পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কোনো তথ্য ফাঁস করলে তাদের বিরুদ্ধে এসইসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। এজন্য ৫ বছর জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারবে এসইসি।

তবে বিলটি গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়ার কারণে এসইসি এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না। গেজেট প্রকাশের পর এসইসিকে দেয়া ক্ষমতা চূড়ান্ত রূপ পাবে।

সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের আহবান ইনভেস্টরস্ ফোরামের

শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আনয়নে সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস্ ফোরামের নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ারবাজার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু গত ২ বছর ধরে বাজারে যে নেতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে দেশের সার্বিক অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারের বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উত্তোরণে সরকার, সুশীল সমাজ, বাজার বিশেষজ্ঞ, এফবিসিসিআই, গণমাধ্যম, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এক ও অভিন্ন লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহবান জানান তারা।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বড় খাত হলো শেয়ারবাজার। এ বাজারে প্রায় ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী জড়িত রয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২ কোটি মানুষ সম্পৃক্ত ও তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ ও কুচক্রীমহল বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস ও অস্থিতিশীল করে তুলতে কারসাজি করে যাচ্ছে। এসব কারসাজি চক্র সম্পর্কে বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও সর্তক থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো জানান, দেশের সার্বিক অর্থনীতি শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে মারাতœক হুমকির মুখে পড়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দেশী বিদেশী বিনিয়োগ সব কিছুই আজ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এ অস্থিতিশীল অবস্থা দেশের জন্য বিপদ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, গত ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা, এরপরে মহাধ্বসের কবলে পড়ে ২ বছরের ব্যবধানে তা নেমে এসেছে ২০০ কোটি টাকার নীচে। দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের অবদান ছিল ২০ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে ১০ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লাখ লাখ যুবক বেকার হয়ে পড়বে এবং শিল্পে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো জানান, দেশে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগের পর্যাপ্ত বিকল্প পথ না থাকায় লাখ লাখ যুবক শেয়ারবাজারকে তাদের আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। যে কারনে তারাও তাদের শেষ সম্বল এ বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ ধসের যাতাকলে আজ তারা সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব ও সর্বশান্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম। এমনকি এ বাজারে অর্থনীতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিনিয়োগ করে অব্যাহত দরপতনের ধাক্কা সামলাতে না পেরে রনি জামান, ফয়সাল আহমেদ ও যুবরাজসহ অনেক বিনিয়োগকারী আত্মহননের পথ বেছে নেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোনো কোনো বিনিয়োগকারী হার্ট এ্যাটাকে মারা যান এবং কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি আশু উন্নতি না হলে সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্ট রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনও ফুটে ওঠেনি।

তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেয়ারাবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলকরণ ফান্ড গঠন অত্যন্ত জরুরি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিস্ক্রিয় অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, আলোচিত বাংলাদেশ ফান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা এখনই প্রয়োজন রয়েছে, শেয়ারবাজারে ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ সিদ্ধান্তের মোট আমানতের কমপক্ষে ১০ শতাংশ অথবা সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতির ২৫ শতাংশ অথবা ৪০ শতাংশ পরিষ্কার ঘোষণা করতে হবে, মন্দাবাজারে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামসহ অতিরিক্ত আইপিও অনুমোদন থেকে বিরত থাকতে হবে, বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণাসহ আপাতত ব্লক মার্কেটে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি থেকে বিরত রাখতে হবে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, দীর্ঘ ২ বছর ধরে বাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে অস্থিরতা লেগে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে আমরা বাজারের সকল বিনিয়োগকারী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ঠ সবার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থিতিশীল বাজার সৃষ্টিতে কাজ করতে সহযোগিতা চাই।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উদ্বিগ্ন হাউজ কর্মকর্তারা

বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঠিকমত অংশ নিতে না পারায় হাউজগুলোতে লেনদেন কমেছে। এতে করে হাউজগুলোর আয় কিছুটা কমে যাওয়ায় কর্মরতরা উদ্বিগ্ন। কারণ কতিপয় হাউজের মালিকপক্ষ এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকুরিচ্যুত করতে পারে এমন সংশয়ে রয়েছেন অনেকে।

পুঁজিবাজারে মহাধ্বসের কবলে পড়ে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ লোকসান গুণতে না পেরে আবার অনেকে লোকসানের পরিমান কমাতে ইতিমধ্যে এক তৃতীয়াংশ কর্মী ছাটাই করেছে। তবে বেশ কয়েক মাস ধরে এমন পরিস্থিতি লক্ষ করা না গেলেও দেশের রাজনীতির চলমান পরিস্থিতি হাউজ কর্মীদের ভাবিয়ে তুলেছে।

গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ঘরের বাইরে বেড়ানোর সাহস পাননি। তাছাড়া রাস্তা-ঘাটে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল না থাকায় বিনিয়োগকারীরা তাদের গন্তব্যে যেতে পারছেন না। যার কারণে দেখা গেছে লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব। এ কারণে হাউজগুলোর আয় কমে গেছে।

হাউজ কর্মকর্তাদের দাবি, যেভাবে লেনদেন হচ্ছে তাতে মালিক পক্ষকে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এমতবস্থায় লোকসানের পরিমান কমাতে কর্মী ছাটাই করা ছাড়া উপায় থাকবে না হাউজ মালিকদের। আর এ কারণে দেখা যাবে কর্মহীন হয়ে পড়ছে অনেক মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাউজ কর্মকর্তা বলেন, লেনদেনের যে গতি তাতে করে কর্মী ছাটাই করা ছাড়া হাউজ মালিকদের আর কোনো উপায় থাকবে না। যেখানে হাউজ টিকিয়ে রাখাই কষ্ট সেখানে কর্মী দিয়ে কি করবে। মালিকপক্ষ কর্মী ছাটাই করতে বাধ্য হবে।

বিনিয়োগকারী কবির মাহমুদ বলেন, কয়েকদিন ধরে দেশে যে অবস্থা বিরাজমান করছে তাতে করে বাইরে বেড়ানোর সাহস করতে পারি না। মনে হয় বাহিরে গেলে জীবননাশ হতে পারে। কারণ, নিজের জীবন সবার আগে।

আরেক বিনিয়োগকারী হাফিজ আহমেদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজার এমনিতেই ক্রান্তিকাল পার করছে তার মধ্যে আবার বাসা বেধেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। যেটা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সার্বিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়ছে মাত্র ১৬০ কোটি টাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লেনদেন আশংকাজনকহারে কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরডি ফুডের উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা

আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থে কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে আরডি ফুড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নোটিশের জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থে কোম্পানিটি ৩টি নতুন মিল্ক প্রোডাক্ট বাজারে আনবে। এগুলো হলো- ম্যাঙ্গো মিল্ক, চকোলেট মিল্ক এবং স্ট্রবেরি মিল্ক। এছাড়া  ৫ ধরণের নতুন চকোলেট বাজারে আনবে কোম্পানিটি। এজন্য কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

আবারও গভীর অন্ধকারের দিকে শেয়ারবাজার

অব্যাহত দরপতনের কারণে আবারও গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ভয়ে তাদের বিনিয়োগ গুটিয়ে বসে রয়েছে। এতে ফায়দা তুলে নিচ্ছে এক শ্রেনীর কারসাজি চক্র। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে সরকার সরাসরি পদক্ষেপ না নিলে এ বাজারের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ  করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে যখন ব্যাপক দরপতন হয়েছিল তখন ক্ষমতায় ছিল বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তখন কারসাজির মাত্রা  এতোটাই প্রকট আকার ধারন করেছিল যারা ওই সময় বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন তাদের টাকা নিমেষেই কাগজে পরিণত হয়েছিল। যদিও বাজারের পরিধি ওই সময় বর্তমান বাজারের চেয়ে ছোট ছিল। তবে ওই সময় বাজার ধসের পিছনে যারা দায়ী ছিল তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে চরম মূল্য দেয়ার পিছনে শেয়ারবাজার একটি কারণ ছিল বলে রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেছেন। এরপর ২০০৮ সালে আবার আওয়ামী লীগ সরকার দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের কোনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি রোড শো’র মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এতে অন্যান্য পেশার লোকজনসহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বেকার ছাত্র শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে একটু সাবলম্বী হওয়ার আশায়। এরপর ২০১০ সালের নভেম্বরে শেয়ারবাজার অতি উচ্চতায় উঠে যায়। বাজার নিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা সমালোচনা। বিষয়টি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বুঝে উঠতে না পারলেও কারসাজি করে যারা বাজারকে ওই অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল তারা ঠিকই ফায়দা লুটে বেরিয়ে গিয়েছিল। এরপর পতনের ধারা শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে। ধীরে ধীরে বাজারে মহাধস নেমে আসে। যা ২ বছর ধরে বিরাজমান। এ সময়ের মধ্যে সরকার বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যতটুকু আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে তার চেয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজন মন্ত্রীর বাজার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অযাচিত নেতিবাচক কথাবার্তায় বাজারে পতনের মড়ক লাগে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সরকারের কাছে বাজারের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাস্তায় নেমে অনেক কান্না কাটি করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এদিকে চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৩৬০০ পয়েন্টে নেমে যায়। ওই দিন সংসদে বিনিয়োগকারী ও বাজারকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সংসদকে প্রাণবন্ত করে তোলে। এরপরে  বাজার একটু একটু করে ভালো অবস্থার দিকে যায়। বিনিয়োগকারীরা আবারও বিনিয়োগে ফিরে আসে। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাজার ভালো ছিল। এরপর বাজারে আবার অব্যাহত দরপতন নেমে আসে। বর্তমানে ডিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচক নেমে এসেছে ৪০২৪ পয়েন্টে। লেনদেন গড়ে ২০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ২০১০ সালে ৫ ডিসেম্বর ডিএসই’র সাধারণ সূচক ছিল ৮৯১৮ পয়েন্ট। লেনদেন গড়ে দুই হাজার কোটি টাকার উপরে ছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে সংশ্লিষ্ট রেগুলেটর প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে বাজারের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়েছে। কিন্তু বাজারে কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের শেয়ারবাজারে সরাসরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।  


এ বিষয়ে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা জানান, বাজার যেভাবে নিম্মমুখী হচ্ছে তাতে মনে হয় সংশ্লিষ্ট রেগুলেটের প্রতিষ্ঠানের মাথা ব্যথা নেই। তবে বিনিয়োগকারী ও অর্থের যোগান বাড়ানোর ক্ষেত্র হিসেবে শেয়ারবাজারকে এ মুহুর্তে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় নেয়া উচিত। পাশাপাশি বাজার নিয়ে কারা কারসাজি করছে কিংবা অব্যাহত পতন কেন হচ্ছে তা দ্রুত খতিয়ে দেখাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, বর্তমান বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আইসিবি, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো সক্রিয় না। এদের মধ্যে কেউ কেউ ডে ট্রেডারের মতো আচরণ করছে। আবার কেউ কেউ সাইড লাইনে বসে কম দরে শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগ থেকে দুরে রয়েছে। একইসঙ্গে বাজারকে যারা কারসাজির আশ্রয় নিয়ে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের ব্যাপারে খতিয়ে দেখে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

বিনিয়োগকারী আসাদুল, সাব্বির, রনি বলেন, এ বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ডিএসই নানা ধরনের আশার বানী শুনিয়ে ২ বছর সময় পার করেছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পতনের বৃত্তে বাজার ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখতে তাদের মধ্যে উদাসীনতা কাজ করছে। তাই একমাত্র সরকার এ বাজারের অস্থিত্ব রক্ষা করতে পারবে বলে তাদের মতো অন্য বিনিয়োগকারীরাও বিশ্বাস করেন বলে তারা জানান।       

উত্থান নাকি আইওয়াশ!

দেশের উভয় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার মূল্যসূচকের পতন প্রবণতায় লেনদেন শুরু হলেও উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। টানা পতনের পর এ উত্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এটি উত্থান নাকি আইওয়াশ?
ধারাবাহিক দরপতনের পর সূচকের এ নামমাত্র উত্থানকে খুলনার স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম উত্থান বা আইওয়াশ বলে মনে করলেও আগামীতে তারা একটি ভালো বাজারের প্রত্যাশা করছেন।  
তবে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীরা বলেন, এ ধরণের নাটক এর আগেও বহুবার দেখেছি। আমার বাজারের কৃত্রিম উত্থান চাই না। চাই একটি ভালো বাজার। যেখানে বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব হওয়ার ভয় থাকবে না।
বিনিয়োগকারী প্রফেসর সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারের এ উত্থান কৃত্রিম উত্থান। যা বিনিয়োগকারীরা চান না। তারা কারসাজি মুক্ত স্বাভাবিক উত্থানের একটি ভালো বাজার চায়।

খুলনা বিনিয়োগকারী স্টুডেন্ট ফোরামের আহবায়ক মাসুম হোসেন মাহিন বলেন, বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেললে কারসাজি চক্র বাজারে উত্থান দেখিয়ে তাদের ধরে রাখে।
বিনিয়োগকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃত্রিম উত্থান নয় বাজারের স্বাভাবিক উত্থান প্রয়োজন। আর যার জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের বাজারে সক্রিয়তা।
এদিকে স্থানীয় বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজারে অর্থ প্রবাহ বাড়ছে না। ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়না। তারা মনে করেন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো হলে বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগবে না।